
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য প্ল্যাকার্ড হাতে একাই দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির চবি শাখার সাবেক সহ-সম্পাদক ওয়াহিদুল আলম।
রোববার (১৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার চত্বরে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে তিনি এই দাবি জানালেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় চবি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রেজাউল হক রুবেলের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
প্ল্যাকার্ডে উল্লেখ ছিল, ‘ছাত্রলীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার কর, করতে হবে’, ‘রাজনৈতিক রাজবন্দিদের মুক্তি চাই, দিতেই হবে’ এবং ‘প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ’ লেখা।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন জোবরা গ্রামে ওয়াহিদুলের বাড়ি। এর আগে তিনি তার গ্রামে ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের চেষ্টা করেছিলেন, এবং জুলাইয়ে হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “সে ছবি তুলতে যতক্ষণ সময় নিয়েছে, ততক্ষণই দাঁড়িয়ে ছিল। এটি কারো নজরে আসার আগেই সে পালিয়ে গেছে। আমরা এখন তাকে শনাক্ত করার চেষ্টা করছি এবং সে যদি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কোরবান আলী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত হয়েছি। শহীদ মিনারের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আমরা তার পরিচয় শনাক্ত করার চেষ্টা করছি।”
এ বিষয়ে চবি ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন মন্তব্য করেন, “এই ছেলেটি ঈদের দুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেটে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কিছু সদস্য নিয়ে মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছে। বিষয়টি জানার পর আমরা ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী গিয়ে তাদের প্রতিহত করি। এখন একই ছেলেটি আজ ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সে জোবরা গ্রামে থাকে।”
তিনি আরো বলেন, “এর আগেও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ এমন কিছু কর্মসূচি করেছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন পদক্ষেপ নেয়নি। আমি মনে করি, প্রশাসনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তারা এমন কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।”
চবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মো. পারভেজ জানান, “এই ছেলের বিরুদ্ধে জুলাই কেন্দ্রিক মামলা ছিল। এর আগে সে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসন এ বিষয়ে নির্বিকার থেকে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “ছাত্রশিবিরের দাবি স্পষ্ট, যারা জুলাইয়ের হামলাসহ বিগত দিনে ফ্যাসিবাদকে সহায়তা করেছে, তাদের অবশ্যই অ্যাকাডেমিক এবং প্রশাসনিকভাবে শাস্তি প্রদান করতে হবে।”
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।